প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে মাঝারি আকারের মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রায় ৮২ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ২৩০ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। ১-১০০ কোটি ডলারের বার্ষিক আয় রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্ষতির এ পূর্বাভাস দিয়েছে জেপি মরগান চেজ ইনস্টিটিউট। এসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের এক-তৃতীয়াংশ কর্মী কাজ করেন। খবর এপি।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো বিশেষ করে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি পরিকল্পনায় খুচরা ও পাইকারি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ এসব খাতে মুনাফার হার কম ও আমদানিনির্ভরতা অনেক বেশি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুসারে, বিদেশী রফতানিকারকরা বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করবে। কিন্তু জেপি মরগান চেজ বলছে, শুল্কের এ বোঝা আসলে মার্কিন কোম্পানিগুলোই বহন করবে। তাই পণ্য ও সেবার দাম বৃদ্ধি, কর্মী ছাঁটাই, নতুন নিয়োগ বন্ধ কিংবা মুনাফার পরিমাণ কমিয়ে আনার মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
গড় হিসাবে বর্তমান হারে শুল্ক বহাল থাকলে একেকটি কোম্পানির জন্য কর্মীপ্রতি খরচ বাড়বে ২ হাজার ৮০ ডলার, যা তাদের বার্ষিক বেতনের ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন শুধু যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ এবং ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে চীন থেকে আসা পণ্যে ৪০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এর বিপরীতে মার্কিন পণ্য পাবে ভিয়েতনামে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির গতি বাড়িয়ে দিতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কব্যয় সরাসরি ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ বলছে, ১০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের অর্ধেক ভোক্তাদের ওপর চাপাতে পারে কোম্পানিগুলো। তাতে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানিগুলোকে এখন থেকেই সম্ভাব্য পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দ্রুতই বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।